শিক্ষা এবং
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতার কারণে জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণার এক বছর
আগের প্রাপ্য ‘টাইমস্কেল’ এখনও পাননি সরকারি হাইস্কুলের দুই হাজার ৮১৮ জন
সহকারী শিক্ষক। তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছেন বলে
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন।
জানা গেছে, অষ্টম বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন
শুরু হয়েছে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে, যেখানে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড
বাতিল করা হয়েছে। আর সহকারী শিক্ষকরা টাইমস্কেল পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন
২০১৪ সালে। এই হিসেবে এসব শিক্ষক এক বছর আগেই টাইমস্কেল সুবিধা পাওয়া কথা।
কিন্তু দুই মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তহীনতা,
সমন্বয়হীনতা ও ক্ষেত্রবিশেষ গাফিলতির কারণে হাইস্কুলের শিক্ষকরা এই আর্থিক ও
মর্যাদার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এজন্য তারা এখন লাগাতার আন্দোলন বিশেষ করে
কর্মবিরতি পালনের চিন্তাভাবনা করছেন। বকেয়া সুবিধা পাওয়ার জন্য মামলারও
প্রস্তুতি নিচ্ছেন সরকারি হাইস্কুলের মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘টাইমস্কেল
প্রদান’ সংক্রান্ত কমিটির সদস্য ও মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর
এলিয়াছ হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে সর্বশেষ গত ৭ আগস্ট শিক্ষা
মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি এখনও ফাইনাল
(চূড়ান্ত) হয়নি। এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে। তা না হলে
ভবিষ্যতে শিক্ষকদের পেনশন পেতে সমস্যা হবে। তবে আমরা আশা করছি শীঘ্রই এই
জটিলতা কেটে যাবে।’
গত ৭ আগস্টের সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
পাশাপাশি অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু
এর আগে গত ১৭ মে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত সভায় অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের
প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এজন্য দ্রূত চেষ্টা করেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই
জটিলতার নিরসন করতে পারছে না বলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার কর্মকর্তারা
জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সরকারি মাধ্যমিক
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ইনছান আলী সংবাদকে বলেন, ‘সর্বশেষ সভায় অর্থ
মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানিয়েছেন বিষয়টির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে।
তাছাড়া অষ্টম বেতন কাঠামোয় টাইমস্কেল সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু
শিক্ষকরা মনে করেন_ এভাবে আর কালক্ষেপণ চলবে না। আমরা আগামী রোববার পর্যন্ত
অপেক্ষা করবো। এরপর দেশের সকল শিক্ষককে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামবো।
কারণ এটা শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা।’
মাউশি জানায়, অতীতের নিয়মানুযায়ী
শিক্ষকদের চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম টাইমস্কেল (জাতীয় বেতন কাঠামোর
নবম গ্রেড), ১২ বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় টাইমস্কেল (অষ্টম গ্রেড) এবং ১৫ বছর
পূর্ণ হলে তৃতীয় টাইমস্কেল (সপ্তম গ্রেড) পেতেন শিক্ষকরা। কিন্তু
হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষকরা এই তিন স্কোরের ‘টাইমস্কেল’ সুবিধা থেকেই
বঞ্চিত রয়েছেন।
জাতীয়করণ ও নতুন স্থাপিত প্রতিষ্ঠানসহ
বর্তমানে দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৩৩৫টি। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী
শিক্ষকের পদ রয়েছে ১০ হাজার ২০৪টি। এর মধ্যে কর্মরত শিক্ষক আছেন আট হাজার
৪৬০ জন। আর শূন্য রয়েছে এক হাজার ৭৪৪টি পদ। এ অবস্থায় টাইমস্কেলবঞ্চিত
শিক্ষকরা লাগাতার আন্দোলনে গেলে সব সরকারি হাইস্কুলেই একাডেমিক কার্যক্রম
স্থবির হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মাউশির কর্মকর্তারা।
সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা
dainikshiksha.com
dainikshiksha.com


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন