প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি
দেওয়ার পর প্রায় তিন বছর পার হলেও বাগেরহাটের শ্রীফলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
জাতীয়করণ হয়নি বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান শেখের।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি
জানান তিনি।
এই প্রধান শিক্ষক বলেন, ২০১৩ সালের ১৩
নভেম্বর রামপাল উপজেলার সদর রেডিয়াসে অবস্থিত শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন
বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণ করবেন। অথচ জাতীয়করণ হলো পাশের অন্য স্কুল। এ বিষয়ে
আমরা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি এর আগেও একমাত্র
মডেল প্রকল্পভুক্তির সকল শর্ত পূরণ করলেও বিদ্যালয়টিকে মডেল প্রকল্পভুক্ত
করা হয়নি। একইভাবে জাতীয়করণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত এবং এ বিষয়ে
প্রধানমন্ত্রীর জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকা সত্বেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেন, শুধু
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির জন্যই নয় প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য যে সকল
বিধি-বিধান বেধে দেয়া হয়েছে তার সবই পূরণ করেছে। তার পরে প্রতিষ্ঠানটিকে
জাতীয়করণের তালিকায় রাখা হয়নি। এদিকে জানা যায় বিদ্যালয়টি উপজেলা সন্নিকটে
অবস্থিত। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে পর্যাপ্ত ভবন, বড় একটি অডিটরিয়াম, সুপ্রসস্ত
মাঠ, মসজিদ ছাত্রাবাস সবই রয়েছে।
অন্যদিকে জানা যায়, জাতীয়করণের জন্য যে
বিদ্যালয়টিকে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে সেটি মোটেও শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক
বিদ্যালয় থেকে অধিক মান সম্পন্ন নয়। উপজেলা সদর রেডিয়াসের বাইরে, ৭নং
ইউনিয়ন এ অবস্থিত পেড়িখালী পি.ইউ.মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের
তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ ওই বিদ্যালয়টির নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেছন। তারা দাবি করেন,
মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে পেড়িখালী বিদ্যালয়টিকে
জাতীয়করণের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তারা আরো দাবি করেন বিদ্যালয়টি এর আগেও
২০০৮ খ্রিস্টাব্দে মডেল প্রকল্প পরিপত্রের শর্তাবলী লঙ্ঘন করে। ওই বিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষ অসত্য তথ্য প্রতিবেদনের মাধ্যমে ও চক্রান্তমূলকভাবে পেড়িখালী
পি.ইউ. মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিকে মডেল প্রকল্পবভূক্ত করেন।
তাই শ্রীফলতলা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ আমলে নিয়ে এবং রামপাল উপজেলার বৃহত্তর এলাকার গণদাবির
প্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সাথে বিগত ২০১৩
খ্রিস্টাব্দের ১৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি
বাস্তবায়নের জন্য মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তারা।
সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা
dainikshiksha.com
dainikshiksha.com


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন