সরকারি
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষদের বহু কাঙ্খিত টাইমস্কেল বেতন কাঠামো
নিয়ে আগামী সপ্তাহেই সন্তোষজনক সংবাদ আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক
সমিতির এক সমাবেশে এ কথা বলেন সমিতির সভাপতি ও ধানমন্ডি গভঃ বালক
উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইনসান আলী।
ইনসান আলীর বক্তব্যে সুর মিলিয়ে শিক্ষা
অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস উপস্থিত শিক্ষকদের
আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারি মাধ্যমিকে শিক্ষকদের যেহেতু দ্বিতীয়
শ্রেণির মর্যাদা দেয়া হয়েছে তাই চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম টাইম
স্কেল (জাতীয় বেতন কাঠামোর অষ্টম গ্রেড) এবং ১২ বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয়
টাইমস্কেল (সপ্তম গ্রেড) পাবে। এবং সেটা যেভাবেই হোক আমরা আদায় করবো।
তবে এজন্য একটু সময় দিতে হবে। নিরাশ হলে চলবে না।
বুধবার (২৫ আগস্ট) সকালে সমিতির
বিভিন্ন জেলার সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতিদের নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডি
গভঃ বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে এ আলোচনা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সমিতির সভাপতি আরো
বলেন, আমরা সরকারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আন্দোলন করতে চাই না। কারণ
আমার সরকারেরই একটা অংশ। তাই সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোন কাজ
আমরা করবো না। গঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমেই আমরা আমাদের দাবি আদায়
করবো। কারণ এটা আমাদের প্রাপ্য।
এসময় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন
সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও শিক্ষা অধিদপ্তরের
মাধ্যমিকের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল, সহ-সভাপতি ও শিক্ষা অধিদপ্তরের
মাধ্যমিকের সহকারী পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক
মো. জালাল উদ্দিন, সংগঠনিক সম্পাদক মনোয়ারুল ইকবালসহ সমিতির বিভিন্ন
অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা
কামাল বলেন, আমরা শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড নিয়ে তাদের
পাওনা ন্যায্য দাবি আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে
শিক্ষকদের প্রাপ্য এ দাবি আমরা মূল্যবান আলোচনার মাধ্যমেই আদায় করতে
চাই। আর সেটা আমরা পারবো বলে আমরা মনে করি।
তিনি আরো বলেন, আমার সরকারি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বার্থে নতুন একটি কর্মপদ্ধতি হাতে নিয়েছি।
যার ফলে মাধ্যমিকের শিক্ষকরা তাদের চাকরির বয়স আট বছর পূর্ণ হলেই
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে পারবে। একই সাথে তাদের
যদি সেখানে কাজ করতে ইচ্ছে না করে তবে তারা পুণরায় শিক্ষকতা পেশায়
ফিরে আসতে পারবে। ইতিমধ্যে আমরা এই কর্মপদ্ধতির কাগজপত্র তৈরি করে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন তারা এটি নিয়ে আলোচনা
করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক
সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির গঠনমূলক সকল
কর্মসূচিতে আমি স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবো। তবে তাঁরা যদি কোন
রকম আন্দোলনে যায় তবে আমি এর সাথে নেই।
তিনি এসময় উপস্থিত শিক্ষকদের আশ্বাস
দিয়ে বলেন, সরকারি মাধ্যমিকে শিক্ষকদের যেহেতু দ্বিতীয় শ্রেণির
মর্যাদা দেয়া হয়েছে তাই চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম টাইম স্কেল
(জাতীয় বেতন কাঠামোর অষ্টম গ্রেড) এবং ১২ বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয়
টাইমস্কেল (সপ্তম গ্রেড) পাবে। এবং সেটা যেভাবেই হোক আমরা আদায় করবো।
তবে এজন্য একটু সময় দিতে হবে। নিরাশ হলে চলবে না।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আন্দোলন
নয় নিয়ম তান্ত্রিকভাবেই আমরা আমাদের টাইম স্কেল পাওয়ার জন্য কাজ
করে যাব। এবিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আমরা সুপরিকল্পিত প্রস্তাবনা
পেশ করেছি। এসময় তিনি আরো বলেন, খুব তারাতারি আমরা সেক্রেটারী ফর
সেকেন্ডারি পেয়ে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের এ বিষয়ে আশ্বস্ত
করেছেন এবং তার উপদেষ্টার সাথেও আমাদের কথা হয়েছে।
এসময় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নেতারা
অতি দ্রুত তাদের টাইম স্কেল প্রদানের দাবি জানান। পাশাপাশি তারা
সমিতির কর্মকান্ড সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেতে সমিতির নিজস্ব একটি
ওয়েবসাইট তৈরির তাগিদ দেন। এসময় কেউ কেউ তাদের দাবি না মানলে
আন্দোলন করার কথাও তুলে ধরেন।
২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই থেকে টাইম
স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। আর তখন থেকেই অষ্টম
বেতন কাঠামোর বাস্তবায়ন শুরু হয়। এদিকে সহকারী শিক্ষকরা টাইম স্কেল
পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে। সে হিসেবে এসব শিক্ষকের এক
বছর আগেই টাইম স্কেল সুবিধা পাওয়ার কথা।
অতীতের নিয়মানুযায়ী শিক্ষকদের চাকরির আট
বছর পূর্ণ হলে প্রথম টাইমস্কেল (জাতীয় বেতন কাঠামোর নবম গ্রেড), ১২ বছর
পূর্ণ হলে দ্বিতীয় টাইম স্কেল (অষ্টম গ্রেড) এবং ১৫ বছর পূর্ণ হলে তৃতীয়
টাইম স্কেল (সপ্তম গ্রেড) পেতেন শিক্ষকরা। কিন্তু হাই স্কুলের সহকারী
শিক্ষকরা এই তিন স্কোরের ‘টাইম স্কেল’ সুবিধা থেকেই বঞ্চিত রয়েছেন।
জাতীয়করণ ও নতুন স্থাপিত প্রতিষ্ঠানসহ
বর্তমানে দেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে ৩৩৫। এসব প্রতিষ্ঠানে সহকারী
শিক্ষকের পদ রয়েছে ১০ হাজার ২০৪। এর মধ্যে কর্মরত শিক্ষক আছেন আট হাজার
৪৬০। আর শূন্য রয়েছে এক হাজার ৭৪৪। এ অবস্থায় টাইম স্কেল বঞ্চিত শিক্ষকরা
লাগাতার আন্দোলনে গেলে সব সরকারি হাই স্কুলেই একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির
হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
সূত্রঃ দৈনিক শিক্ষা
dainikshiksha.com
dainikshiksha.com



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন